Saturday, October 20, 2012

বাংলাদেশের আসল সমস্যাটা কোথায় ?




বাংলাদেশের আসল সমস্যাটা কোথায়? কেউ বলে দুর্নীতি প্রবনতা, কেউ বলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবার অনেকেই বলে থাকে পুরো সমস্যা কাঠামোর সমস্যা প্রত্যেকটি, এটা সঠিক, কিন্তু প্রধান কি? এসবের মূলে আসলে সমস্যাটা কোথায়, যেটাকে স্পষ্ট পরখ করা যায় না, বা সমস্যা বলে মনেই হয় না?

বাংলাদেশ একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশউন্নত দেশগুলোর সাথে ‘উন্নয়নশীল’ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর পার্থক্য এখানেই যে, উন্নত বিশ্বের সকল দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আছে আর ‘উন্নয়নশীল’ তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে নেই, আছে পরনির্ভরশীল অর্থনীতিবাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা অবশ্যই প্রাক-আমলে স্থাপন করা উপনিবেশ শাসন-আমলের এক অনিবার্য ফল নিজস্ব জাতীয় বাজারে দেশীয় পণ্যের বাজার গঠন হয় না এসব তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে, বাজার দখল করে রাখে বাইরের দেশগুলোকম মূল্যে শ্রম বিক্রয় করবার সামর্থ থাকায় তৃতীয় বিশ্ব হতে উৎপাদিত পণ্য বাইরে যে কোন বাজারে কম মূল্যে বিক্রয় হয়ে থাকেঅন্য দিকে বিদেশী পণ্য দখল করে রাখে জাতীয় বাজারঅনেকের ধারণা থেকে থাকতে পারে কম দামে পণ্য উৎপাদন করে বিদেশী বাজার দখল করা সম্ভব; ভুল, মুক্তবাজার অর্থনীতি কথায় লেখা থাকলেও নিজ বাজারের স্বার্থহানি হবে এমন কোন কাজ কখনও কোন দেশ করবে নাবিস্তারিত ব্যখ্যা হবে নিম্নেআর বিশ্বায়নের বর্তমান যুগে কম মূল্যে শ্রম খাটিয়ে মুনাফা বাড়াবার জন্য উন্নত বিশ্বকে নির্ভর করতে হয় এই সব নিম্ন স্তরের দেশগুলোর ওপর, তাই বলা যেতে পারে উন্নত বিশ্বের স্বার্থ কেবল তৃতীয় বিশ্বকে টিকিয়ে রাখবার, উন্নয়নের জন্য নয়

পূর্বে দেখা গেছে বাজারের পরিধি বৃদ্ধি করার লক্ষ নিয়ে অনেক রকম কৌশল অবলম্বন করা হয়েছেএক রাজার বিরুদ্ধে আরেক রাজার যুদ্ধ, বৃটিশ উপনিবেশ স্থাপন, বিশ্বযুদ্ধ সহ অতীতের সকল যুদ্ধ এবং রষ্ট্রীয় দ্বন্দ্ব, এবং বর্তমানের সকল কৌশলগত বা সরাসরি যুদ্ধ, সকল কিছুর মূলেই প্রমানিত আছে এক পাক্ষিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে বলা যায়, অর্থনীতি যেহেতু বাইরের বাজারের উপর নির্ভরশীল, সেহেতু বাইরে পণ্য [শ্রম] বিক্রি করা না গেলে অর্থনীতি ধ্বসে পড়বে আর বাইরের বাজার প্রতিষ্ঠা হয় বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে, যা সরকার পক্ষ থেকে করা হয়অপর দিকে ব্যবসায়ীদের ধর্মই হল টাকা বানানো, বাইরে যাতে তাদের পণ্যের বাজার টিকে থাকে, সেজন্য নানা ভাবে পায়তারা করতে থাকে সবসময়তাই সরকারের সাথে একান্ত ঘনিষ্ঠতা রাখবার চেষ্টা করে তারা- অর্থ সাহায্য দিয়েই হোক, আর যেভাবেই হোক না কেনআর এরকম কারণ থেকেই আমরা দেখি সরকারী চাকুরীপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এরকম হাজারও পৃষ্ঠপোষকতায় আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যায়আর আমরা এটাকেই বলি দুর্নীতি।

          একটা উদাহরণ ধরা যাকঃ বিদ্যুত খাতে দুর্নীতি। সরকার অহেতুক একটা রাস্তায় সোলার প্যনেল বসিয়ে বাতি জ্বালাবেব্যবসায়ীরা প্রথমে সরকারকে টাকার প্রস্তাব করবে পার্লামেন্টে এই বিল পাস করাবার জন্যতারপর সব ব্যবসায়ীরা নিজে কাজ পাবার জন্য করে সরকারকে অর্থ দেবার প্রলোভন দেবেযে এই প্রতিযোগীতায় টাকার অংক বেশী দেবে সেই কাজ পাবেআর ব্যবসায়ী বাইরে থেকে আমদানী করে সোলার প্যনেল বসিয়ে সেখান থেকে বিশাল লাভাংশ তুলে নেবে। আবার এমনও হতে পারে ঘনিষ্ঠতার খাতিরে কাজ পেয়ে সে টেন্ডারটি বিক্রি করে দিল; বিনা বিনিয়োগে [investment] বিশাল অংকের টাকা উপার্যন করে ফেলল- আর এভাবেই মানুষ ভিখারি থেকে কোটিপতি তে পরিণত হয়ব্যবসায়ী যাই করুক না কেন, সে মুনাফার জোয়ারে ভেসে যায় আর দেশের টাকা অঘোরে বাইরে চলে যায়

অন্যদিকে এই সব ব্যবসায়ীরা দেশীয় পণ্যের ব্যবসায়ীদের বাজার নষ্ট করে একেবারে ব্যাঙ্গের ছাতার মত দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছেসরকার যখন বাইরের বাজারের সঙ্গে চুক্তি করে, তখন আবার এমন ব্যবস্থা করে রাখে যে আমদানীক্রৃত সোলার প্যনেলের দাম দেশীয় সোলার প্যনেল’র থেকে কম হয়ে থাকে- বিদেশী দেশটি নিশ্চয় নিজের লোকসান দিয়ে চুক্তি করবে নাফলে যা হয়ে থাকে, দেশীয় সোলার কারখানা মার খেয়ে যায়দেশীয় কারখানা বন্ধ হয়ে যায়, ব্যবসায়ীরা ঝুঁকে পড়ে আমদানী-রপ্তানী ব্যবসায়, সরকারের সঙ্গে সকল মহলের আর্থিক ঘনিষ্ঠতা বেড়েই চলে, একই সাথে বাড়ে দুর্নীতি। এটাকেই আমরা বলি দূর্বল প্রশাসনিক ব্যবস্থা

[এই ঘনিষ্ঠতা সৃষ্টিকারীরা অর্থাৎ তদবিরকারীরা চালু করে এমনই এক সংস্কৃতি, যেখানে বিনা পরিশ্রমে বিপুল উপার্যন করা সম্ভব- তাই এখন প্রায় সবখানেই এই সংস্কৃতির প্রচলন আমরা প্রত্যক্ষ করি। টাকা যেখানে মানুষকে দাস করে রেখেছে, সেখানে বাড়তি উপার্যনে ক্ষতি কিসের ? ]

কেন দুর্নিতী আমাদের অর্থনীতির প্রধান সমস্যা নয়, সেটা একটু আলোচনা করা উচিৎ। বাংলাদেশের প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে উৎপাদনশীল কৃষি খাত, শিল্প খাত এবং রেমিটেন্স থেকে। আর অর্থনীতি থেকে ব্যায় হয়ে যায় আমদানীতে [আমাদের প্রায় সকল ব্যবহারিক পণ্য বিদেশী] এবং অন্যান্য নানা কারণে। দুর্নিতী থেকে অবৈধ টাকার একটা সুযোগ থেকেই যায় দেশে পুনরায় খাটাবার, কিন্তু যে টাকা আমদানি তে ব্যায় হয়, সেই টাকাগুলো অর্থনীতি থেকে হাওয়া হয়ে যায় পুরোপুরি ভাবে। আর বাইরে কোথাও যে দুর্নিতী হয় না, সেটাও নয়।

সংকলন করে যা বোঝা যেতে পারে, দুর্নীতি, প্রশাসন ইত্যাদি এগুলো কোনটাই মূল সমস্যা নয় বাংলাদেশের জন্যমূল সমস্যা হচ্ছে নিজস্ব অর্থনৈতিক ভিত্তির অভাব, যেটা অনিবার্যভাবে বাকি সব ধরণের সমস্যার কারণএই সমস্যা দূর করতে হলে প্রকৃত জনগনের প্রশাসন দরকার, আন্তর্যাতিক হস্তক্ষেপ দূর করা দরকার আর দরকার পুরাতন সমাজ কাঠামোর পরিবর্তন; অন্যথায় অন্যান্য সকল সংস্কার অনিবার্যভাবে বিপথে যাবে। 

সবিশেষে আরো একটি প্রেক্ষাপট তুলে ধরা উচিৎবাংলাদেশের আয় এবং ব্যায় যদি ধরে নেওয়া যায় সমান সমান [যেটা বাস্তবে মোটেই সমান নয়] তাহলে অর্থনীতিতে মোট অর্থের পরিমান অপরিবর্তনশীল থাকে। আবার একই দিক হতে দেশে মুষ্ঠিমেয় কিছু মানুষের কাছে অর্থ জমা হচ্ছে, তারা বড়লোক হয়ে উঠছেএই যদি হয়, তাহলে ব্যপার এটাই দাঁড়ায় যে দেশের বাকি মানুষের কাছ থেকে অর্থ কমছে আর এই মুষ্ঠিমেয় লোকেদের কাছে গিয়ে জমা হচ্ছেজনগণ হচ্ছে গরীব, আর এই তদবিরকারীরা হচ্ছে বড়লোক।

Bangladesh Apparel News

Tuesday, October 16, 2012

'রামু' অসমাপ্ত পর্যালোচনা


ইতি পূর্বে  রামু প্রসঙ্গে- I

          গত তে রামুর ঘটনার বিবরনী এবং তার পর্যালোচনা বেশ তাড়াহুড়োর মাঝে সম্পাদনা করা হয়েছিল তাই বেশ অনেকগুলো ব্যপারের ওপর আলোকপাত করা হয় নি। রামুর ঘটনা তদন্তের কাজ চলছে এবং আশানরুপ কোন প্রকার দিকনির্দেশনা তা হতে পাওয়া যাচ্ছে না। নতুন যা সকল তথ্য আমাদের সকলের হাতে আছে, তা দিয়ে আমরা অন্তত এতটুকু নিশ্চিত হতে পারি যে সম্ভাবনাগুলো হলঃ

          ১। বিরোধী দলীয় জোট, তথা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এর নেপথ্যে।
          ২। অথবা ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতাশীন সরকার এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
          ৩। না হলে আরো বড় কোন শক্তি এর অন্তরালে।

          তৃতীয় সম্ভাবনার কথা হঠাৎ করেই এক আলোচনায় উঠে এল, এর বিস্তারিত আলাপ হবে। বিএনপি’র স্থানীয় নেতা যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, এ কথা আমরা সবাই জানি। জামায়েত’র প্রত্যক্ষ ইন্দন ছিল তাও আমরা জানি। কিন্তু একবার চিন্তা করে দেখা যায়, এই জোটের কেন্দ্রের অবস্থা খুবই নড়বড়ে। তাদের অনেক নেতা-কর্মী এখন জেল-হাজতে অবস্থান করছে, তাই বলা যেতে পারে কেন্দ্রীয় ভাবে তাদের ভিত্তি অনেকটাই দূর্বল। তাছাড়া, তাদের একমাত্র ইস্যু, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার- এই প্রধান ইস্যুতেও তাদের মাঠ পর্যায়ের আন্দোলন খুবই দূর্বল। এই অবস্থাতে তারা এরকম বিশাল এক পরিকল্পনা হাতে নেবে, এটাও বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাছাড়া যদি তাদের সেরকম ভূমিকা আসলেই থাকত, তাহলে তো সরকার এতদিনে তাদেরকে পুরোপুরি নাজেহাল করে দিতে পারতো। সরকার নিজেই যখন তদন্তের কাজ করছে, তাদের জড়িত থাকার সেরকম ইঙ্গিত পেলে, নিশ্চই একেবারে তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার সুযোগ তাদের থাকত। যেহেতু পাচ্ছে না, সেহেতু সেরকম জোড়ালো ভাবে সবাইকে বলতেও পারছে না- এটাই স্বাভাবিক।

          অপর দিকে সরকারের অবস্থাও যে খুব একটা ভালো সেটাও বলা চলে না, বিশ্ব ব্যাংক’র সাথে লেনদেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, সাগর-রুনি হত্যা ইত্যাদি নানা আলোচিত ইস্যু নিয়ে সরকার কড়া সমালোচনার মধ্যে রয়েছে। হয়তো তাদের ভাবমূর্তিকে ভালো করবার লক্ষ নিয়েই পরিকল্পিতভাবে রামু-জজ্ঞ চালানো হয়েছে। আবার এই দূর্বল জাতীয় এবং আন্তর্যাতিক অবস্থানে কোন দল আরেকবার এরকম সমালোচনার মধ্যে নিজেদেরকে ফেলবে তাও যে খুব একটা বাস্তব সম্মত এমনটি ও নয়।
          
          তাহলে বাকি থাকে সম্ভাবনা আরেক অজানা শক্তির। যেই শক্তি এতটাই বড়, এতটাই প্রভাবশালী, যে সরকার পর্যন্ত তাদের ঘাঁটাবার সাহস পাচ্ছে না, বিরোধী দল ও নয়। তবে এতটুকু বলা যেতে পারে যে, যদি কোন দানবীয় শক্তির হাত এখানে থেকে থাকে, তারা অবশ্যই সাম্প্রদায়িক কোন শক্তি। এই শক্তি হঠাৎ করেই যে উদয় হয়েছে, তা বলা অযৌক্তিক, আমাদের মাঝেই ছিল সবসময়, গোপনে।


















Bangladesh Apparel News

Monday, October 8, 2012

রামু প্রসঙ্গে


সেপ্টেম্বর ২৯; কক্সবাজারের রামুর স্থানীয়রা প্রত্যক্ষ করে এক ভয়াবহ নরকান্ড। স্থানীয় বৌদ্ধদের ওপর চলে রাতভর তান্ডব। অন্তত ৭ টি মন্দির, ৩০ টি ঘরবাড়ি-দোকানপাটে আগুন দেয়া হয়, ভাংচুর-লুটপাট হয় অন্তত আরো শতাধিক বৌদ্ধ ঘরবাড়িতে। এই হামলায় জামায়েতর প্রত্যক্ষ ইন্দন প্রমান হয়েছে, অভিযোগ হয়েছে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেবার ক্ষোভকে এখানে ব্যবহার করবার, দায় পড়ছে বিএনপির স্থানীয় এমপির ওপর, আবার পালটা দায় পড়ছে প্রায় ৫ ঘন্টা ব্যপী এই হামলায় প্রসাশনের ব্যর্থতার। সব কিছুর শুরু ধর্ম অবমাননা করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। প্রায় সমসাময়িক সময়েই ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের উখিয়া, টেকনাফ এবং পটিয়ায় চলে হিন্দুদের ওপর তান্ডব। (খবরের সূত্র bdnews24.com)

প্রায় সব জায়গাতেই সাম্প্রদায়িক হামলা বলে এগুলোকে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। সব জায়গাতে মানব-বন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছে এর প্রতিবাদেঃ সাম্প্রদায়িকতা চলবে না। সেচ্চার সবাই হচ্ছে ঠিক, কিন্তু সঠিক বিষয়ে হতে পারছে কি? পর্যালোচনা যা বলেঃ

১৯৭১ সালে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কোন নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় নি চীনের সাথে তাদের একটা যোগসূত্র থাকবার ফলে- সেদিক থেকে তৎকালীন সময়ে চীন ছিল পাকিস্তানের মিত্র। আর অন্য দিক থেকে সেই ৫০০০ বছর আগে থেকে এই অঞ্চলে ভিন্ন সাম্প্রদায়ের মানুষ সবাই মিলেমিশে বসবাস করছে, হয়তো অন্য ধর্ম ছিল, কিন্তু তাও সাম্প্রদায়িকতা বসত কোনরুপ সহিংসতা লক্ষ্য করা যায় নি। কেবল বৃটিষ আমলে হঠাৎ করেই বঙ্গ-ভঙ্গ করার উদ্দেশ্যকে হাসিল করতে গিয়েই সাম্প্রদায়িকতা কে একটা ভিন্ন রুপ নিতে দেখা যায়। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামার শুরু আমরা দেখতে পাই ঠিক তখনই। সেই তখন থেকে এখনও পর্যন্ত সকল সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা'র উৎস আমরা দেখি রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি। সুতরাং যেকোন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হঠাৎ করে উঠে আসবার মত কিছু নয়। তাহলে বাংলাদেশে এখন আমরা কেন হঠাৎ করেই এই সমস্যার মুখোমুখি হলাম?

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সময়টাকে দেখা যাক। এক বছর পরেই নির্বাচন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছে। এখন অনেক কিছু ঘটাটাই স্বাভাবিকঃ গত নির্বাচনের আগে এরকম কোন সময়েই বাংলা ভাই ধরা পরে। বরাবরের মত এবারও একটা-দুইটা নাটক এই সময়েই হবার কথা পাব্লিক সেন্টিমেন্ট পক্ষে আনবার জন্য। এটা খুবই স্বাভাবিক যে বিএনপি বিভিন্নভাবে এই পরিস্থিতিতে সরকারকে নাজেহাল করবার চেষ্টা করবে আবার সরকারও একই পন্থা অবলম্বন করে বিএনপিকে কটাক্ষ করবে। যদি এটাকে সঠিক বলে ধরে এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলে দেখা যায় ঘটনা কিছুটা খাপে খাঁপে এঁটে যায়।

যেমন, হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত ছিলঃ চৌকণা কনক্রিটের ব্লক দিয়ে পিকেটিং করা (এই ধরণের সামগ্রী রামুতে পাওয়া যায় না), ট্রাকে করে হামলাকারীদের নিয়ে আসা (ট্রাক ধরা হয়েছে ড্রাইভার সহ), আর রামুর সেই প্রায় ৫ ঘন্টা ব্যপী হামলায় পুলিশের নির্বাক আচরণ (এত দীর্ঘ হামলায় পুলিশ এতটুকু প্রতিহত করেনি) ইত্যাদি আরো অনেক কিছুই। কেন হামলা পরিকল্পিত? সরকারকে নাজেহাল পরিস্থিতিতে ফেলে ব্যার্থ প্রমান করার চেষ্টা?... আর প্রশাসনই বা কেন হামলার সময়ে নীরব দর্শক? অপশক্তি ক্ষমতায় এলে দেশের কি হাল হবে তা জনগনকে দেখাবার জন্য?... নোংরা... অতি নোংরা রাজনীতি যদি তাই হয়। আশা করি শংকা ভুল, না হলে তো আরো অস্থীতিশীল পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করতে হবে। তাই তো ঘটনার পর দেখা যাচ্ছেঃ একে আরেককে দোষারোপ করায় মাতামাতি অবস্থা। সত্যিকারের দোষীদের কি আদৌ চিহ্নিত করা সম্ভব?

ক্ষমতার লড়াইয়ের শিকার কেন নিরীহ মানুষ? আমরা যদি সেচ্চার হই তাহলে ঘটনার মূলে কেন নয়? ফেসবুকে কালো ছবি দিয়ে কি আসলেই কিছু করা যায়? সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মিছিল করে কি আসলেই কিছু হবে? আবার আমি আজ একে উপেক্ষা করলেই যে আগামীতে আমার ঘর পুরবে না, আমি গুম হব না, এর কি নিশ্চয়তা?



Bangladesh Apparel News

Saturday, September 29, 2012

সংস্কৃতি প্রসঙ্গে

  সংস্কৃতি এমনই এক বিষয়, পৃথিবীর ইতিহাস দেখলে দেখা যায়, যুগে যুগে অনেক সংস্কৃতির উদ্ভব হয়েছে, অনেক সংস্কৃতি হারিয়ে গেছে, আর স্থায়ীগুলোর পরিবর্তন হয়েছে। পৃতিবী যেখানে গতিশীল, সেখানে স্থবির কিছুই টিকে থাকবার কথা নয়। টিকে থাকতে হলে তাকে সর্বদা সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে এবং মানিয়ে চলতে হয়।

  তবে, সুস্থ সংস্কৃতি এবং তার চর্চা একটি সুন্দর সমাজের জন্য আবশ্যক। পচনশীল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানুষকে সেই আদি যুগ থেকে সংগ্রাম করে আসতে হচ্ছে, এবং বলা যেতে পারে ভবিষ্যতেও করতে হবে। যা কিছু পচনশীল তা অবশ্যই বর্জনীয়, আর যা কিছু সুন্দর, তাই পূজনীয়। তবে নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, আগে একে মাপবার সঠিক মাপকাঠি নির্ণয় করতে হয়।

  সংস্কৃতি এমনই শক্তিশালী এক ক্ষেপনাস্ত্র, যে এটি মানুষের চিন্তা ও চিন্তাধারাকে পুরোপুরি ভাবে নিয়ন্ত্রন করে। যুগে যুগে অনেকেই বিভিন্ন সংস্কৃতির ওপর নিজ প্রভাব বিস্তার করে মানুষকে মুঠোর আয়ত্বে আনবার চেষ্টা করেছে- কেউ সফল হয়ে যুগান্তকারী হয়ে ইতিহাসের পাতায় রয়ে গিয়েছেন স্বর্ণাক্ষরে, কেউ বিজীত হয়ে তলিয়ে গেছেন অন্ধকারে।

  সঠিক কোন জিনিসটি, বিষয়টি অনেক বিতর্কিত। তবে স্থান, কাল, পাত্র বিবেচনায় বাস্তব নির্ণয় করে সামনে আরো সুন্দর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবার লক্ষ্যই সংস্কৃতির মূখ্য বিষয় হওয়া উচিৎ। সেই অনু্যায়ী ভাঙ্গা-গড়ার মধ্য দিয়ে দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ায় সংস্কৃতি কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কাম্য। পুরোনো পাতাগুলো ঝরে যাবে, তাই এটাই হবে নতুনদের সামনে একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ।

Friday, September 21, 2012

রাজনীতি প্রসঙ্গে


            তারুন্যের শুরুতে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের মতই অনেক সমাজ কল্যাণ কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়া হয়েছিল। খুব আগ্রহ ছিল কাজ করবার প্রতি, দারুণ উদ্যম পেতাম। সেই মূহুর্তগুলিতে এক মুখের হাসি দেখেই মনে হত জীবনের স্বার্থকতা আর কোথায় অমন আছে?

            খুব করে মনে পড়ে এক বিকেলের আলাপ। জয় সদ্য উত্তরবঙ্গ বা সিলেট ফেরত শীতকালীন বস্ত্র বিতরণ শেষ করে। ওই প্রথম আমার যাওয়া হয় নি। অভিজ্ঞতা, মতামত সার সংকলনের সময় খটকা লাগেঃ নিঃস্ব মানুষেরা কেন দাতাকর্তাদের গালাগাল করবেন? হন্যে হয়ে উত্তর খুঁজেছিলাম বেশ কয়েক মাস, সব বন্ধ করে দিয়ে।

            একদিন এহতেশাম ভাই বলেন, রাজনীতি ছাড়া প্রকৃত অর্থে জন-মানুষের কল্যাণ করা যাবে না। তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই কেবল তাদের প্রকৃত অর্থে সাহায্য করা সম্ভব।

            যুক্তিগত। অত্যান্ত মর্মান্তিক সত্য। সত্য যত কঠিনই হোক না কেন, তা সত্য। এ হচ্ছে সত্যের এক বৈশিষ্ট, খামোখাই তাকে হতে হবে অত্যান্ত জটিল। 

Monday, September 10, 2012

পিয়াসু এক পরিব্রাজক



     গলায় দড়ি দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা ছেলে আমি পূর্বে ঠিকই ছিলাম। তারপর কিভাবে বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডের দ্বার আমার কাছে উন্মোচিত হল তার সঠিক কারণ আমার মনে নেই। এরপর আমায় পায় কেঃ কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা... কিন্তু মনে মনে নয়, বাস্তবেই। এর পর হতেই ছুটে গেছি বিভিন্ন কোণে, ওয়ার্ল্ড ম্যাপের নয়- বাংলাদেশের ম্যাপে। যতই দেখেছি, ততই বিস্মিত হয়েছি।

     কত বৈচিত্রময় আমার এই দেশ। কত কিছুই না দেখবার আছে, জানবার আছে, শিখবার আছে। ঘুরে ঘুরে দেখি আর ভাবিঃ কতই না মূর্খ আমি। কিচ্ছু দেখি নি, কিচ্ছু জানি নি, কিচ্ছু শিখিনি।

     তবে পুরোদমে হারিয়ে যাওয়া এখনও হয় নি। সংসারের মায়া আমায় এখনও আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তাকে যে অস্বীকার করা যায় না। তবে যাব একদিন, সেদিন বন্ধু আমায় পিছু টেনে ধরো না, দোহাই।

Sunday, September 9, 2012

যাত্রালগ্ন

সব সময়ই মনে করতাম, জীবনে যা কিছু দেখেছি, শিখেছি তা সকলের কাছে তুলে ধরব। দু'জোড়া চোখ দিয়ে পৃথিবীকে যেমনি দেখেছি, অমন সকলকে দেখাব।  সেই ইচ্ছা হতেই এই ব্লগের যাত্রালগ্ন... ৯ সেপ্টেম্বর ২০১২, ১৩২৬ঘ।