সংস্কৃতি এমনই এক বিষয়, পৃথিবীর ইতিহাস
দেখলে দেখা যায়, যুগে যুগে অনেক সংস্কৃতির উদ্ভব হয়েছে, অনেক সংস্কৃতি হারিয়ে
গেছে, আর স্থায়ীগুলোর পরিবর্তন হয়েছে। পৃতিবী যেখানে গতিশীল, সেখানে স্থবির কিছুই
টিকে থাকবার কথা নয়। টিকে থাকতে হলে তাকে সর্বদা সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে এবং মানিয়ে
চলতে হয়।
তবে, সুস্থ সংস্কৃতি এবং তার চর্চা একটি
সুন্দর সমাজের জন্য আবশ্যক। পচনশীল সংস্কৃতির বিরুদ্ধে মানুষকে সেই আদি যুগ থেকে
সংগ্রাম করে আসতে হচ্ছে, এবং বলা যেতে পারে ভবিষ্যতেও করতে হবে। যা কিছু পচনশীল তা
অবশ্যই বর্জনীয়, আর যা কিছু সুন্দর, তাই পূজনীয়। তবে নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে, আগে
একে মাপবার সঠিক মাপকাঠি নির্ণয় করতে হয়।
সংস্কৃতি এমনই শক্তিশালী এক
ক্ষেপনাস্ত্র, যে এটি মানুষের চিন্তা ও চিন্তাধারাকে পুরোপুরি ভাবে নিয়ন্ত্রন করে।
যুগে যুগে অনেকেই বিভিন্ন সংস্কৃতির ওপর নিজ প্রভাব বিস্তার করে মানুষকে মুঠোর
আয়ত্বে আনবার চেষ্টা করেছে- কেউ সফল হয়ে যুগান্তকারী হয়ে ইতিহাসের পাতায় রয়ে
গিয়েছেন স্বর্ণাক্ষরে, কেউ বিজীত হয়ে তলিয়ে গেছেন অন্ধকারে।
সঠিক কোন জিনিসটি, বিষয়টি অনেক বিতর্কিত।
তবে স্থান, কাল, পাত্র বিবেচনায় বাস্তব নির্ণয় করে সামনে আরো সুন্দর দিকে এগিয়ে নিয়ে
যাবার লক্ষ্যই সংস্কৃতির মূখ্য বিষয় হওয়া উচিৎ। সেই অনু্যায়ী ভাঙ্গা-গড়ার মধ্য
দিয়ে দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ায় সংস্কৃতি কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কাম্য। পুরোনো পাতাগুলো
ঝরে যাবে, তাই এটাই হবে নতুনদের সামনে একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ।