Monday, October 8, 2012

রামু প্রসঙ্গে


সেপ্টেম্বর ২৯; কক্সবাজারের রামুর স্থানীয়রা প্রত্যক্ষ করে এক ভয়াবহ নরকান্ড। স্থানীয় বৌদ্ধদের ওপর চলে রাতভর তান্ডব। অন্তত ৭ টি মন্দির, ৩০ টি ঘরবাড়ি-দোকানপাটে আগুন দেয়া হয়, ভাংচুর-লুটপাট হয় অন্তত আরো শতাধিক বৌদ্ধ ঘরবাড়িতে। এই হামলায় জামায়েতর প্রত্যক্ষ ইন্দন প্রমান হয়েছে, অভিযোগ হয়েছে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেবার ক্ষোভকে এখানে ব্যবহার করবার, দায় পড়ছে বিএনপির স্থানীয় এমপির ওপর, আবার পালটা দায় পড়ছে প্রায় ৫ ঘন্টা ব্যপী এই হামলায় প্রসাশনের ব্যর্থতার। সব কিছুর শুরু ধর্ম অবমাননা করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। প্রায় সমসাময়িক সময়েই ধর্ম অবমাননার অভিযোগ কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের উখিয়া, টেকনাফ এবং পটিয়ায় চলে হিন্দুদের ওপর তান্ডব। (খবরের সূত্র bdnews24.com)

প্রায় সব জায়গাতেই সাম্প্রদায়িক হামলা বলে এগুলোকে চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। সব জায়গাতে মানব-বন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ হচ্ছে এর প্রতিবাদেঃ সাম্প্রদায়িকতা চলবে না। সেচ্চার সবাই হচ্ছে ঠিক, কিন্তু সঠিক বিষয়ে হতে পারছে কি? পর্যালোচনা যা বলেঃ

১৯৭১ সালে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের কোন নির্যাতনের মুখে পড়তে হয় নি চীনের সাথে তাদের একটা যোগসূত্র থাকবার ফলে- সেদিক থেকে তৎকালীন সময়ে চীন ছিল পাকিস্তানের মিত্র। আর অন্য দিক থেকে সেই ৫০০০ বছর আগে থেকে এই অঞ্চলে ভিন্ন সাম্প্রদায়ের মানুষ সবাই মিলেমিশে বসবাস করছে, হয়তো অন্য ধর্ম ছিল, কিন্তু তাও সাম্প্রদায়িকতা বসত কোনরুপ সহিংসতা লক্ষ্য করা যায় নি। কেবল বৃটিষ আমলে হঠাৎ করেই বঙ্গ-ভঙ্গ করার উদ্দেশ্যকে হাসিল করতে গিয়েই সাম্প্রদায়িকতা কে একটা ভিন্ন রুপ নিতে দেখা যায়। সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামার শুরু আমরা দেখতে পাই ঠিক তখনই। সেই তখন থেকে এখনও পর্যন্ত সকল সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা'র উৎস আমরা দেখি রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধি। সুতরাং যেকোন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হঠাৎ করে উঠে আসবার মত কিছু নয়। তাহলে বাংলাদেশে এখন আমরা কেন হঠাৎ করেই এই সমস্যার মুখোমুখি হলাম?

বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে সময়টাকে দেখা যাক। এক বছর পরেই নির্বাচন, বর্তমান সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছে। এখন অনেক কিছু ঘটাটাই স্বাভাবিকঃ গত নির্বাচনের আগে এরকম কোন সময়েই বাংলা ভাই ধরা পরে। বরাবরের মত এবারও একটা-দুইটা নাটক এই সময়েই হবার কথা পাব্লিক সেন্টিমেন্ট পক্ষে আনবার জন্য। এটা খুবই স্বাভাবিক যে বিএনপি বিভিন্নভাবে এই পরিস্থিতিতে সরকারকে নাজেহাল করবার চেষ্টা করবে আবার সরকারও একই পন্থা অবলম্বন করে বিএনপিকে কটাক্ষ করবে। যদি এটাকে সঠিক বলে ধরে এগিয়ে যাওয়া যায় তাহলে দেখা যায় ঘটনা কিছুটা খাপে খাঁপে এঁটে যায়।

যেমন, হামলা পূর্ব-পরিকল্পিত ছিলঃ চৌকণা কনক্রিটের ব্লক দিয়ে পিকেটিং করা (এই ধরণের সামগ্রী রামুতে পাওয়া যায় না), ট্রাকে করে হামলাকারীদের নিয়ে আসা (ট্রাক ধরা হয়েছে ড্রাইভার সহ), আর রামুর সেই প্রায় ৫ ঘন্টা ব্যপী হামলায় পুলিশের নির্বাক আচরণ (এত দীর্ঘ হামলায় পুলিশ এতটুকু প্রতিহত করেনি) ইত্যাদি আরো অনেক কিছুই। কেন হামলা পরিকল্পিত? সরকারকে নাজেহাল পরিস্থিতিতে ফেলে ব্যার্থ প্রমান করার চেষ্টা?... আর প্রশাসনই বা কেন হামলার সময়ে নীরব দর্শক? অপশক্তি ক্ষমতায় এলে দেশের কি হাল হবে তা জনগনকে দেখাবার জন্য?... নোংরা... অতি নোংরা রাজনীতি যদি তাই হয়। আশা করি শংকা ভুল, না হলে তো আরো অস্থীতিশীল পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করতে হবে। তাই তো ঘটনার পর দেখা যাচ্ছেঃ একে আরেককে দোষারোপ করায় মাতামাতি অবস্থা। সত্যিকারের দোষীদের কি আদৌ চিহ্নিত করা সম্ভব?

ক্ষমতার লড়াইয়ের শিকার কেন নিরীহ মানুষ? আমরা যদি সেচ্চার হই তাহলে ঘটনার মূলে কেন নয়? ফেসবুকে কালো ছবি দিয়ে কি আসলেই কিছু করা যায়? সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে মিছিল করে কি আসলেই কিছু হবে? আবার আমি আজ একে উপেক্ষা করলেই যে আগামীতে আমার ঘর পুরবে না, আমি গুম হব না, এর কি নিশ্চয়তা?



Bangladesh Apparel News